কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 24 জুলাই 2024

উঁহু। এ ছবি দেখার মত দৃষ্টিদান আমাকে তো কেউ করে নি। ও আমি কামনাও করিনে। মর্যাদা বলে তো একটা ব্যাপার আছে না কি? ঐ থোবড়া দেখে গোটা বসু পরিবার দিওয়ানা হয়ে গেল, সে কার পাপে বলে দিতে হবে? মুরোদ সাড়ে চুয়াত্তর পয়সার, আর রোয়াব লাখ টাকার। বৌ ঠাকুরাণীর হাটে বেচে দাও না, ঠেলে উঠবে মরণের পারে। যদিও ওরা থাকে ওধারে, তাও তো চাঁপাডাঙার বৌটাকে ঝাড়ি মারে এন্তার। হাবভাব এমন, উনি অন্নপূর্ণার মন্দির বানিয়ে অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছেন যেন। এদিকে মন্ত্রশক্তির কি জোর! যেখানে যত ব্রতচারিণী ছিল তাদের নিয়ে সদানন্দের মেলায় গিয়ে খালি ফষ্টিনষ্টির তাল। অত ভালো মেয়ে অনুপমা, একখানি নষ্টামির হাসি উপহার পেয়ে সে এখন বলে বেড়ায় ঐ ছোঁড়া নাকি সবার উপরে! কঙ্কাবতীর ঘাটে শুনেছে সবাই। রাইকমল পিসি অমন জাঁদরেল মনিষ্যি, সব সম্পত্তি দেবত্র করে নাকি সাঁঝের প্রদীপের মত ছোঁড়ার ফটো আগলে বসে আছে। যেন বৈকাল হ্রদের ধারে শাপমোচন হবে ত্রিযামা উপোস দিলে। শ্যামলী আবার বলে ইনি নাকি মস্ত শিল্পী। শুনে শঙ্কর নারায়ণ ব্যাঙ্ক ফেল হয়েছে মশাই। সাহেব বিবি গোলাম সব একধারসে পেগলে গেল ইদিকে সাগরিকা ঘুরছে পুত্রবধূ হবার তালে। উনি একবারটি তাকালেই নাকি ছুঁড়ির নবজন্ম হবে। পারলে লক্ষহীরা দিয়ে একটি রাত অন্তত ওনার জলসায় যায়। ওদিকে চিরকুমার সভা চটে লাল। রাতভোর বসেছিল। সব তেনার সুরের পরশে একেবারে গলে জল। পুনর্মিলন হয়ে টয়ে এখন ছোঁড়া আবার বলে পৃথিবী আমারে চায়। সেসব শুনে পথে হল দেরী। একদিকে হারানো সুর পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে চন্দ্রনাথ বড়দিদির হাত এড়িয়ে পগার পার। ও ছোঁড়ার দৌলতে অভয়ের বিয়েটাই ফেঁসে যাচ্ছিল। পইপই করে সবাই বলে দিয়েছে বাড়ীর নাম জীবনতৃষ্ণা, ছোঁড়া সেই উঁচু সূর্যতোরণ টপকে মানময়ী গার্লস স্কুলে উপস্থিত। ইন্দ্রাণী চমকে অজ্ঞান হয়ে কেলেঙ্কারির একশেষ। ডাক্তারবাবু এসে উদ্ধার করলেন। রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ও ছোঁড়ার বিয়েতে যৌতুক এনেছিল শরৎ রচনাবলী। সেই থেকে এনারা এক পেয়ালার বন্ধু। বলে কিনা মরুতীর্থ হিংলাজ যাবে, যেন খেলাঘর পেয়ে বসেছে। গলি থেকে রাজপথ সব গড়াগড়ি খাচ্ছে, চাওয়া পাওয়ার হিসেব কে করে! বিচারক যাকে করলুম সে সোনার হরিণ দেখার মত ছুটল। তুকতাক করে বেবাক অবাক পৃথিবী গুণ করেছে এই বলে দিলুম, শুন বরনারী। রাজা সাজা ঢের হয়েছে, মায়া-মৃগ ফৃগ দেখে কুহকে একবার ভুলেছ কি হাত বাড়ালেই বন্ধু। সোনামুখ করে খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন হলেই হল, আসলে কিনা শখের চোর। শহরের ইতিকথাটাই পাল্টে দিল। ইনি তো সাথীহারা হয়ে সপ্তপদী ঘুরতে পারলেন না, কিন্তু দুই ভাই মিলে ঝিন্দের বন্দীর থেকে রাজকুমারী ঝেঁপে আনল। তারপর ছোঁড়াকে দেখে কি কান্না বিপাশার। ভাবলুম এই তাহলে শেষ অঙ্ক। ও মা, ভ্রান্তিবিলাস বই আর কিছু তো না। রাজদ্রোহীটা ঘুরঘুর করছিল, থানা থেকে আসছি বলতেই চম্পট। শুধু একটি বছর নায়ক হয়েছিল। তারপর সে চিড়িয়াখানায় ঢোকে কার সাধ্যি। জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য করে নায়িকা সংবাদ জোগাড় করলুম, দূর দূর। সব কেমন সব হারানো সুর। মেমসাহেব এখন বাঘ বন্দী খেলায় আটকে গেছে, বাঁচাও। যদি জানতেম, গড় নাসিমপুর থেকে চৌরঙ্গী অবধি কমললতাকে বরং এগিয়ে দিতেম। ছদ্মবেশী ছোঁড়া যে চিরদিনের হিরো সে কি আর বলে দিতে হবে? মৌচাকে ঢিল আর মেরে কাজ নেই, ওনার প্রিয় বান্ধবী সব এসে দু ঘা কষাক তারপর। আপাতত আমি সে ও সখা সবরমতীর আনন্দ আশ্রমেই যাই, দুই পুরুষের দেবদাস যা পারে করুক গে। ধন্যি মেয়ে ঐ সিস্টার। এইসব রোমিওগিরি ঘুচিয়ে ছোঁড়াকে সোজা সন্ন্যাসী রাজা করে দিতে পারলে তবে কিনা হাড় জুড়োয়। উফ।

ওগো বধূ সুন্দরী, জেনে রেখো এ লোক ডেঞ্জার-ই!

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • চা

    পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 21 মে 2024

    কেটলিতে আধহেমন্তের সকাল বুড়বুড়ি কাটছে। ঐ ঘাড়ে ঘাড়ে জোলো দুধ আর চিনির ডেলা পড়ল। রং দেখ, যেন সাক্ষাৎ মে মাসের দুপুর। সামান্য শিউরে উঠলেন সাঁপুইবাবু। হাতে হাতে পাচার হয়ে যে ভাঁড়টা এসে পৌঁছল তার খোঁদলে উষ্ণ তরলের ওপর পুরু সর। তাও মুখ দেখার ব্যর্থ চেষ্টা তিনি করবেনই। রোজকার মতন। রিফ্লেক্স।

  • গুরু প্রণাম

    ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য | প্রকাশিত: 30 নভেম্বর 2024

    তেত্রিশ বছর আগের কথা। ক্লাস ফাইভে আমার প্রথম দিন, গরমের ছুটি পড়বে ঠিক তার পরদিন থেকে। নতুন স্কুলেও সেদিনই আমার প্রবেশ, মহারাষ্ট্র থেকে সদ্য এসেছি কলকাতায়, কথায় কথায় হিন্দি মারাঠি 'ঘুসে' যায় তখনও। মা বাবা ভর্তি করে দিলেন স্থানীয় ইশকুলে। রবীন্দ্র বালিকা বিদ্যাপীঠ, বাংলা মাধ্যম, সবুজ স্কার্ট শাদা শার্ট। তবে সেইদিন ছিল রঙ্গিন পোষাকের দিন, গরমের ছুটি পড়ে যাবে এর পর।

  • গ্রে স্কেল চার

    পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 24 জুলাই 2025

    সেও এক দিন ছিল!

    ষাটের শেষ, কিংবা সত্তরের শুরু। উঠতি বয়সের সিড়িঙ্গে এক ছোকরা চায়ের দোকানে বিড়ি ফুঁকছে। যেমন ধারালো মুখ তেমন ধারালো জিভ। ফাঁকিবাজ আবার পরোপকারী বলে দুর্নাম। এর বাপকে নালিশ দেবার সাহস কার আছে? মহেশ বাঁড়ুয্যে ডাকসাইটে পণ্ডিত। মামুলি সরকারী চাকুরে হতেই পারেন, কিন্তু খড়ম, সংস্কৃত আর অঙ্কে গায়ত্রী জপেন। তাঁর মেজ ছেলে এমন মারকুটে দুর্মুখ ধারা কোথা থেকে পেলে কেউ জানে না।

  • কালো মেয়ে

    ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য | প্রকাশিত: 25 অক্টোবার 2024

    দুপুরবেলা পড়তে বসে অংকে ভুল হয়ে যায় মেয়ের, মুঠো খানেকের হৃৎপিন্ডে ছলকে ওঠে রক্ত, বেণীমাধবকে দেখে একদৌড়ে সে পালিয়ে যায় ঘরে। বেণীমাধব, লেখাপড়ায় ভালো, শহুরে, দেখতেও বুঝি রাজপুত্তুরটি।

    কিন্তু, মেয়েটির গায়ের রং যে কালো?

  • আহু দারিয়েই

    পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 07 নভেম্বর 2024

    আহু দারিয়েই বলে আসলে কিছু নেই।

    বিশ্বাস হচ্ছে না? আপনি বলবেন ভাইরাল হয়েছিলেন আহু দারিয়েই। আপনি বলবেন হিজাব ছাড়া দুই সন্তানের জননী আহু দারিয়েই তেহরানের ইসলামী আজাদ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে এসেছিলেন। পর্দা না করার মত গুনাহ ওখানকার মাতব্বরেরা মোটেও কবুল করেননি। তাঁরা এসে তরুণীকে উত্তম মধ্যম দিয়ে তার ঊর্ধ্বাঙ্গের পোষাক কেড়ে তাঁকে ক্ষমা করে ছেড়ে দেন।

  • ঈদ মোবারক নাসিম

    ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য | প্রকাশিত: 30 মার্চ 2025

    নাসিম, কেমন আছিস?

    আজ ঈদ। ঈদের অকুন্ঠ শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা নিস। আমিও নিলাম। নিয়ে দিয়ে কিছু অতিরিক্ত রয়ে গেলে সেই ভালোবাসায় চল হরির লুট দিই। আমার দিদুন দিতেন তুলসীতলায় দাঁড়িয়ে। তোর নানা সাহেব যেমন যাকাতুল ফিতর দিতেন, রমজানের শেষে।

  • কুত্তা বিল্লি ফ্রী

    পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 16 আগস্ট 2025

    একটু ইউটোপিয়ার কথা হোক? হ্যাঁ? বেশি না, বছর তিনেক পরে।

    দিল্লি কলকাতা মুম্বাই এখন স্পটলেস ক্লিন। যেদিকে তাকাবেন নো সাইন অফ নেড়ি কুত্তা। কর্পোরেশন সব তুলে সাফ করে দিয়েছে। এখন কুত্তা মানেই বকলস দেওয়া বিলিতি হাইব্রিড। বেশিদিন বাঁচেও না, ইনস্টা স্টোরি ফোরি রিল ফীল হয়ে যাচ্ছে এটাই শান্তি।

  • গ্রে স্কেল তিন

    পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় | প্রকাশিত: 27 ডিসেম্বর 2024

    টেলিভিশন জিনিসটা যারা আটের দশকে জন্মেছে তাদের জন্য একটা আস্ত জীবন্ত রূপকথা ছিল। এই কর লো দুনিয়া মুঠ্ঠি মে র অনেক আগের দিনকাল সেসব। আমার গল্পটা বলি, জানি এমন গল্প আছে এ দেশের অনেক প্রৌঢ় পাড়ায় পাড়ায়। তখন সদ্য সদ্য একটা আধটা মধ্যবিত্ত বাড়িতে ঢুকছে সাদা কালো টেলেরামা। রামানন্দ সাগরের ডিরেকশনে দারা সিং নতজানু হয়ে বসে বুক চিরে দেখাচ্ছেন রাম সীতার ছোট্ট পোস্টকার্ড সাইজ ছবি।