উঁহু। এ ছবি দেখার মত দৃষ্টিদান আমাকে তো কেউ করে নি। ও আমি কামনাও করিনে। মর্যাদা বলে তো একটা ব্যাপার আছে না কি? ঐ থোবড়া দেখে গোটা বসু পরিবার দিওয়ানা হয়ে গেল, সে কার পাপে বলে দিতে হবে? মুরোদ সাড়ে চুয়াত্তর পয়সার, আর রোয়াব লাখ টাকার। বৌ ঠাকুরাণীর হাটে বেচে দাও না, ঠেলে উঠবে মরণের পারে। যদিও ওরা থাকে ওধারে, তাও তো চাঁপাডাঙার বৌটাকে ঝাড়ি মারে এন্তার। হাবভাব এমন, উনি অন্নপূর্ণার মন্দির বানিয়ে অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছেন যেন। এদিকে মন্ত্রশক্তির কি জোর! যেখানে যত ব্রতচারিণী ছিল তাদের নিয়ে সদানন্দের মেলায় গিয়ে খালি ফষ্টিনষ্টির তাল। অত ভালো মেয়ে অনুপমা, একখানি নষ্টামির হাসি উপহার পেয়ে সে এখন বলে বেড়ায় ঐ ছোঁড়া নাকি সবার উপরে! কঙ্কাবতীর ঘাটে শুনেছে সবাই। রাইকমল পিসি অমন জাঁদরেল মনিষ্যি, সব সম্পত্তি দেবত্র করে নাকি সাঁঝের প্রদীপের মত ছোঁড়ার ফটো আগলে বসে আছে। যেন বৈকাল হ্রদের ধারে শাপমোচন হবে ত্রিযামা উপোস দিলে। শ্যামলী আবার বলে ইনি নাকি মস্ত শিল্পী। শুনে শঙ্কর নারায়ণ ব্যাঙ্ক ফেল হয়েছে মশাই। সাহেব বিবি গোলাম সব একধারসে পেগলে গেল ইদিকে সাগরিকা ঘুরছে পুত্রবধূ হবার তালে। উনি একবারটি তাকালেই নাকি ছুঁড়ির নবজন্ম হবে। পারলে লক্ষহীরা দিয়ে একটি রাত অন্তত ওনার জলসায় যায়। ওদিকে চিরকুমার সভা চটে লাল। রাতভোর বসেছিল। সব তেনার সুরের পরশে একেবারে গলে জল। পুনর্মিলন হয়ে টয়ে এখন ছোঁড়া আবার বলে পৃথিবী আমারে চায়। সেসব শুনে পথে হল দেরী। একদিকে হারানো সুর পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে চন্দ্রনাথ বড়দিদির হাত এড়িয়ে পগার পার। ও ছোঁড়ার দৌলতে অভয়ের বিয়েটাই ফেঁসে যাচ্ছিল। পইপই করে সবাই বলে দিয়েছে বাড়ীর নাম জীবনতৃষ্ণা, ছোঁড়া সেই উঁচু সূর্যতোরণ টপকে মানময়ী গার্লস স্কুলে উপস্থিত। ইন্দ্রাণী চমকে অজ্ঞান হয়ে কেলেঙ্কারির একশেষ। ডাক্তারবাবু এসে উদ্ধার করলেন। রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ও ছোঁড়ার বিয়েতে যৌতুক এনেছিল শরৎ রচনাবলী। সেই থেকে এনারা এক পেয়ালার বন্ধু। বলে কিনা মরুতীর্থ হিংলাজ যাবে, যেন খেলাঘর পেয়ে বসেছে। গলি থেকে রাজপথ সব গড়াগড়ি খাচ্ছে, চাওয়া পাওয়ার হিসেব কে করে! বিচারক যাকে করলুম সে সোনার হরিণ দেখার মত ছুটল। তুকতাক করে বেবাক অবাক পৃথিবী গুণ করেছে এই বলে দিলুম, শুন বরনারী। রাজা সাজা ঢের হয়েছে, মায়া-মৃগ ফৃগ দেখে কুহকে একবার ভুলেছ কি হাত বাড়ালেই বন্ধু। সোনামুখ করে খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন হলেই হল, আসলে কিনা শখের চোর। শহরের ইতিকথাটাই পাল্টে দিল। ইনি তো সাথীহারা হয়ে সপ্তপদী ঘুরতে পারলেন না, কিন্তু দুই ভাই মিলে ঝিন্দের বন্দীর থেকে রাজকুমারী ঝেঁপে আনল। তারপর ছোঁড়াকে দেখে কি কান্না বিপাশার। ভাবলুম এই তাহলে শেষ অঙ্ক। ও মা, ভ্রান্তিবিলাস বই আর কিছু তো না। রাজদ্রোহীটা ঘুরঘুর করছিল, থানা থেকে আসছি বলতেই চম্পট। শুধু একটি বছর নায়ক হয়েছিল। তারপর সে চিড়িয়াখানায় ঢোকে কার সাধ্যি। জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য করে নায়িকা সংবাদ জোগাড় করলুম, দূর দূর। সব কেমন সব হারানো সুর। মেমসাহেব এখন বাঘ বন্দী খেলায় আটকে গেছে, বাঁচাও। যদি জানতেম, গড় নাসিমপুর থেকে চৌরঙ্গী অবধি কমললতাকে বরং এগিয়ে দিতেম। ছদ্মবেশী ছোঁড়া যে চিরদিনের হিরো সে কি আর বলে দিতে হবে? মৌচাকে ঢিল আর মেরে কাজ নেই, ওনার প্রিয় বান্ধবী সব এসে দু ঘা কষাক তারপর। আপাতত আমি সে ও সখা সবরমতীর আনন্দ আশ্রমেই যাই, দুই পুরুষের দেবদাস যা পারে করুক গে। ধন্যি মেয়ে ঐ সিস্টার। এইসব রোমিওগিরি ঘুচিয়ে ছোঁড়াকে সোজা সন্ন্যাসী রাজা করে দিতে পারলে তবে কিনা হাড় জুড়োয়। উফ।
ওগো বধূ সুন্দরী, জেনে রেখো এ লোক ডেঞ্জার-ই!