কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ২ - ননীবালা দেবী

ননীবালা দেবী

সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 10 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 16 মিনিট 9 সেকেন্ড
চরিত্রলিপি:
  • ননীবালা | অর্পিতা পাল
  • অমর | প্রিয়াঙ্কা দাস কানুনগো
  • টেগার্ট | পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভূমিকা

পরাধীন ভারতের দুঁদে পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট তিরিশ বছরেরও বেশী সময় কাটিয়েছেন বাংলায়। অগ্নিযুগে সশস্ত্র ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিপ্লবের জানা-অজানা কাহিনী নিয়ে তৈরি শ্রুতিনাটক টেগার্টের ডায়েরি।

আমাদের এই চ্যাপ্টারে আছেন এক ব্ল্যাক উইডো। তিনি হলেন ননীবালা দেবী। এলিট স্পাই নন, ইনফিনিটি স্টোনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেননি, তবে যুগান্তর সমিতির একখানি লুকোনো রিভলবারের সুলুক সন্ধান এনে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে।

ননীবালা দেবী। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী। অফিসিয়ালি প্রথম থার্ড ডিগ্রী খাওয়া মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাটা ঢোকানোর পরেও মুখ না খোলা ননীবালা দেবী।

ইংরেজ সরকার বাহাদুরের চোখে ধুলো দিয়ে দেশের কাজ করে যাওয়া আমাদের ঘরের মেয়ে, যিনি জেল থেকে বেরিয়ে চরকা কেটেছেন বস্তিতে বাসা নিয়ে। স্বাধীনতার আগেও, পরেও।

একদিন জেল খেটে অনেক তথাকথিত স্বাধীনতা সংগ্রামী পরে বড় নেতা হয়েছেন, আখের গুছিয়েছেন। তিনি চরকাই কেটে গেলেন। কে জানে কেন?

টেগার্টের ডায়রীর দ্বিতীয় পর্ব, নির্মিত হয়েছে বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবীর ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

9th September 1915. A day to celebrate, a day to remember. বাঘা যতীনকে সেদিন বুড়ি বালামের তীরে ঝাঁঝরা করে দিয়ে আমরা দুটো যুদ্ধ জিতেছিলাম। পাঁচজন ভারতীয় বিপ্লবীর মাউজার পিস্তলের বিরুদ্ধে আমাদের মডার্ন রাইফেল ফোর্সের একটা যুদ্ধ। আর জার্মানির বিরুদ্ধে আরেকটা যুদ্ধ। দ্য ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়াস ইন ফুল সুইং দেন। জার্মানির জাহাজভর্তি অস্ত্র বাঘা যতীনের হাতে এলে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার দুর্দিনের শেষ থাকত না। উই ওয়ান। পিরিয়ড।

অথচ নেটিভদের এই ভাষায় লিখতে বসলে আমাদের ব্যর্থতাগুলোই আগে মনে পড়ে। হমম, কালা কুত্তাগুলোকে আমি যে কত ঘৃণা করি, এটাই বোধহয় তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। হ্যাঁ, বাঘা যতীনকে আমি দাঁড়িয়ে গুলি করে মেরেছিলাম, ইন ওপেন ফুল ফ্লেজেড ব্যাটেল।

কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভোগবার রোগ আমাদের, বিশেষ করে আমার, চার্লস অগস্টাস টেগার্টের নেই। বাঘা যতীনকে খতম করার পর আমার মূল লক্ষ্য ছিল ওর ডান হাত অমরেন্দ্রকে খুঁজে বার করে আন্দামানে পাঠানো। অমরেন্দ্র চ্যাটার্জি। আমাদের সমস্ত ইন্টেলিজেন্স মিলেও খুঁজে বার করতে পারেনি ওকে, মেঠো ইঁদুরের মত পালিয়ে বেড়িয়েছে আমাদের হাতকড়া এড়িয়ে। তবে ওর সুবাদে ননীবালাকে আমরা পেয়েছিলাম হাতের মুঠোয়। ডার্লিং ননীবালা! বেঙ্গলের প্রথম মহিলা রাজবন্দি। মেয়েছেলে নাকি করবে রাজদ্রোহ! হা হা হা হা।

ননী

বাবা অমর,

চন্দননগরে তোমাদের থাকার চিন্তা এবারে ঘুচল। বেশ বড় একখানা বাড়ি পেয়েছি, সামনে উঠোন, পাকা পায়খানা, সব আছে। তোমাদের প্রাণ হাতে করে গাড়ু নিয়ে পুকুরে যেতে হবে না বাহ্যি করতে। আর বাইরের দালান থেকে ভেতরবাড়ির রাস্তা বেশ খানিকটা। মাখনদাদা বললে এতে মস্ত সুবিধে হল, পুলিশ টুলিশ এলে তাদের ঘরে ঢোকবার আগেই দলের ছেলেরা পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে পারবে। আমি মাখনদাদাকে বলে দিয়েছি, কোনো ভাবনা নেই। আমি তো রইলাম চৌকিদার, দেখি কোন লালমুখো মিনসে আমাকে পেরিয়ে তোমাদের গায়ে হাত দেয়? মাখনদাদা তো আমাকে পিস্তল চালানো শেখাবে বলেছে। আমাদের হরিছোঁড়া তাই শুনে হেসেই খুন। বলে ননীপিসি যেমন পোস্ত বাটে তেমনিই থাক। মেয়েমানুষের হাতে পিস্তল দিয়ে আর কাজ নেই।

আচ্ছা অমর, মেয়েমানুষের জীবন কি এতই অকাজের? আমি হিঁদু ঘরের বালবিধবা, এতে আমার হাত কী বলতে পার বাবা? কতটুকু বয়সে বিয়ে, কতটুকু বয়সে কপাল পুড়ল আমার, সে সোয়ামী সংসারের দিনগুলো এখন মনেও পড়েনা। এই পঁচিশ ছাব্বিশ বচ্ছর বয়স অবধি যখন যমের অরুচি হয়ে আছি, তখন নাও না কেন আমাকে তোমাদের দলে? মা কালীর কাছে বুকের রক্ত দিয়ে বলব বন্দে-মাতরম। শপথ নেব, যেমন যতীনবাবু তোমাকে দীক্ষা দিয়েছিলেন, তেমন! বিশ্বাস কর, আমাকে নিয়ে তোমরা ঠকবে না বাবা। এ দেশ যেমন তোমাদের মা, তেমনি আমারোও তো মা, তাই না? এইটুকু বয়স তোমাদের, জীবন তুচ্ছ করে তোমরা দেশের কাজে ঝাঁপিয়েছ, মেয়েমানুষ বলে আমাকে দূরে সরিয়ে রেখো না বাবা।

মাখনদাদার হাতে এই চিঠির সঙ্গে নিম- শুক্তো পাঠালাম। তোমার জ্বর মুখে জিভে সোয়াদ আসবে দেখে নিও। চন্দননগরে শিগগিরই চলে এসো, কলকাতায় লালমুখোরা তোমাকে খুঁজছে যে।

আমার আশীর্বাদ নিও।

তোমার ননীপিসি।

টেগার্ট

মেয়েদের জায়গা বিছানায় আর রান্নাঘরে। হ্যাঁ আমাদের দেশে পারফেক্ট ওয়াইফরা সেবামূলক কাজও করে,শিকারে যায়, হাজব্যান্ডের জন্য পার্টি দেয়, তো সে তো আমাদের সভ্যদেশের কথা। এটিকেট জানা আইডিয়াল আইরিশ, ইংলিশ উওম্যান কোথায় আর এই নোংরা অসভ্য ইন্ডিয়ার অশিক্ষিত মেয়েছেলে কোথায়! তাই ননীবালাকে দিয়ে ওদের সমাজে একটা মেসেজ পাঠানো দরকার ছিল। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় থেকে government এর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহ করলে তার পরিণতি কী হয় তার এক্সাম্পল করতে চেয়েছিলাম আমরা ননীবালাকে। হমম, ইট ওয়াস আ সাকসেস আই থিঙ্ক, তবে হ্যাঁ, মেয়েটার জেদ ছিল। অবশ্য জেদ না থাকলে এই দেশের একটা হিন্দু বিধবা, বেশ্যাও নয়, সে মাথায় সিঁদুর দিয়ে বিপ্লব করবে, ইভেন আই ওয়াস সারপ্রাইজড, ফর আ হোয়াইল।

অমর

পিসি, ভেবে দেখ। এ বড় কঠিন কাজ। একচুল এদিক ওদিক হলে ধরা তো পড়বেই, রামবাবুর থেকে পিস্তলের হদিসও আর পাব না। মাউজার আমাদের আর নেই, যতীনদার শেষ যুদ্ধে বুড়ি বালামের তীরে সর্বস্ব হারিয়েছে। উনি কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন কেউ জানিনা আমরা। পুলিশের নজর এড়িয়ে এই খবর আনা চাট্টিখানি কথা নয়!

ননী

তুমি ভেবো না অমর। ধরা পড়ব কেন? রামবাবুর পরিবার সেজে যদি যাই, মেয়েছেলেকে কেউ সন্দেহ করবে না বাবা

অমর

পিসি, তুমি ভেবে দেখ। রামচন্দ্রের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেলে ঢোকা - এ কম কথা নয়। ওরা হাজারটা প্রশ্ন করবে, জমাদারনি ডাকিয়ে তোমাকে ভালো করে পরীক্ষা করবে। তুমি নিষ্ঠাবতী হিন্দু বিধবা-

ননী

আমার নিষ্ঠা, আমার থান যদি দেশের কাজে বাধা হয় তবে তা পায়ের তলায় ফেলে দিতে আমার বুক কাঁপবে না বাবা। তুমিই শিখিয়েছ আমাকে দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। না পরিবার, না ধর্ম, না ঈশ্বর। সবার আগে দেশ, সবার আগে স্বাধীনতা। যতীনবাবু যেমন বলতেন, পূর্ণ স্বাধীনতা। তোমাদের কত স্বপ্ন সে তো আমি জানি বাবা। আমিও যে স্বপ্ন দেখি, এ পোড়ার দেশের অভাগী মেয়েগুলোও স্বাধীন হবে, তারা পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, সম্মান পাবে। মেয়েমানুষ না, তারা মানুষ হয়ে বাঁচবে।

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩ - বাঘা যতীন

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩

    বাঘা যতীন

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 21 মিনিট 38 সেকেন্ড

    1915 সালে নয়ই সেপ্টেম্বর যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন পাঁচজন সহযোদ্ধা নিয়ে তিনশো ইংরেজ সৈন্যর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। সেই সৈন্যবাহিনীতে টেগার্ট নিজেও ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের তরফে। টেগার্টের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১ - বিনয় বাদল দীনেশ

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১

    বিনয় বাদল দীনেশ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 23 জানুয়ারী 2022 | সময়কাল: 23 মিনিট 21 সেকেন্ড

    গল্পটা আমাদের মোটামুটি চেনা। ইতিহাস বইয়ে বিনয় বাদল দীনেশের অলিন্দ যুদ্ধের আখ্যান পড়েনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ ব্রিটিশ রাজ যে তাঁদের দেগে দিচ্ছে আর্বান ডাকাত বলে, তা খুব একটা জানা কথা নয়। বিনয় বোস যখন গুলি খেয়ে হাসপাতালে, কমিশনার টেগার্ট সশরীরে গিয়ে বিনয় বোসকে দর্শন দিয়ে এলেন। পরের দিন দেখা গেল বিনয়ের আঙুলের গাঁটগুলো সব ভাঙা।

    অগ্নিযুগে বিপ্লবের জানা-অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি শ্রুতিনাটক টেগার্টের ডায়েরি। চ্যাপ্টার ১ নির্মিত হয়েছে বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স অভিযানের ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • শ্রুতি নাটক - হৃদমাঝারে

    হৃদমাঝারে

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 22 অক্টোবার 2022 | সময়কাল: 17 মিনিট 22 সেকেন্ড

    এডগার অ্যালান পো’র ছোটগল্প “The Tell-Tale Heart” একটি বিখ্যাত সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার। এই কালজয়ী গল্প যদি নেমে আসে লকডাউনের বেকারত্ব নিয়ে অবসাদে ভোগা চেনা মানুষের অচেনা হিংস্র আচরণে, যদি একলা থাকা বৃদ্ধাকে সহজে ডাইনী বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কেমন হতে পারত? সেই অনুমানে নির্মিত ভয়ের শ্রুতিনাটক হৃদমাঝারে। নাটকের কিছু সংলাপ রইল এখানে।

  • দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 19 ডিসেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 36 মিনিট 9 সেকেন্ড

    দ্রোহকাল একটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী। গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক এই কাহিনী অজাতশত্রুর রাজত্বের প্রথমদিকের ঘটনাবলীর ওপর আধারিত। চারশ নব্বই খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ অজাতশত্রুর বৈশালী আক্রমণের পর থেকে মগধের তৎকালীন রাজধানী রাজগৃহে এই কাহিনীর সূত্রপাত। রবীন্দ্রনাথের পূজারিণী কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ আছে, এমনকি বাণী বসুর মৈত্রেয় জাতকের দ্বিতীয় পর্বেও যার আভাস পাওয়া যায়, সেই শ্রীমতির অর্ঘ্যদানের দ্রোহ সম্বল করে শ্রুতিনাটক- দ্রোহকাল। তিন পর্বে প্রকাশিত।

    এই কাহিনী আমাদের আসিফা ট্রিলজির শেষ কিস্তিও বটে। তিহার থেকে বলছি এবং শুধু তোমার জন্যর পর আমরা শেষবার দেখা পাব আসিফার। 

    নাটকের প্রধান চরিত্রে আছেন অজাতশত্রু, দেবদত্ত, শ্রীমতি, আম্রপালী এবং এক বিদেশী।

    এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • তিহার থেকে বলছি

    তিহার থেকে বলছি

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 08 মে 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 27 মিনিট 25 সেকেন্ড

    শ্রুতিনাটক তিহার থেকে বলছি রবিপ্রেমের ফসল। রবীন্দ্রনাথের তিনটি উপন্যাস শেষের কবিতা, ঘরে বাইরে এবং চতুরঙ্গের কিছু অংশ এক কাল্পনিক চরিত্র আসিফার দৃষ্টিতে পাঠ করব আমরা। আসিফা এক রাজবন্দী। লাবণ্য, বিমলা, দামিনীর অন্বেষণে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত মিশে যায়।

    রাজবন্দী আসিফার মোট তিনটি উপাখ্যান আছে, তিহার থেকে বলছি তার প্রথম কিস্তি। নাটকের মৌলিক অংশটি রইল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    নেতাজির উত্থান, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, হিজলী জেল হত্যাকাণ্ড এবং প্যালেস্টাইনের আরব বিদ্রোহ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 3 মিনিট 44 সেকেন্ড

    স্বাধীনতার ইতিহাসটা হয়ত কুখ্যাত টেগার্টের চোখ দিয়ে দেখলে, মাষ্টারদা সূর্য সেন, সুভাষ বোস, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা কি সংগ্রাম করেছেন তার আঁচ পাওয়া যায়। নেতাজির উত্থান এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ থেকে হিজলি জেল হত্যাকান্ড নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘূর্ণিপাকের কেন্দ্রে এই শ্রুতিনাটক।কলকাতার পুলিস কমিশনার টেগার্ট তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ইনিংসের বর্ণনা শেষ করে ইন্ডিয়া থেকে রওনা দেবেন প্যালেস্টাইন। আরব বিদ্রোহীদের সায়েস্তা করার টার্গেট নিয়ে।

  • বিষকন্যা

    বিষকন্যা

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 05 নভেম্বর 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 30 মিনিট 21 সেকেন্ড

    প্রাচীন ভারতীয় রাজনীতির এক অমোঘ দৈব অস্ত্র বিষকন্যা। এক অপরূপা মোহিনী নারী - যে পুরুষ তাঁকে কামনা করে তার সর্বনাশ হয়। সে রাজাই হোক বা অমাত্য। কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই এমন অস্তিত্বের, তবু কল্পকাহিনীতে এই নিয়ে কত গল্প হয়েছে তার লেখাজোখা নেই। যেমন, শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের প্রবল জনপ্রিয় ঐতিহাসিক কাহিনী বিষকন্যা। ষোড়শ মহাজনপদের এই কাহিনীর আর একটি চিত্রনাট্যরূপ উপন্যাস তিনি লিখেছেন - “বহু যুগের ওপার হতে”।

    আমাদের এই শ্রুতিনাটক এই দুইটি কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। নাটকের প্রেম প্রতিশোধের ট্র্যাক অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা উল্কাকে সামান্য বেশি অধিকার দেবার চেষ্টা করেছি। রতিক্রীড়ায় পারদর্শিতাকে ছাপিয়ে রাজনীতির সিদ্ধান্তের অধিকার, তাও পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেমের মধ্যে, সেসব চাইলে এক বিষকন্যাকে কতটা কী পেতে হয় এইটুকুই আমাদের খোঁজ এই নাটকে। সংলাপের অংশবিশেষ এখানে থাকল।

  • শ্রুতি নাটক - মেঘমল্লার

    মেঘমল্লার

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
    সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 18 জুন 2022 | সময়কাল: 36 মিনিট 46 সেকেন্ড

    মেঘমল্লার বিভূতিভূষণের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত এই ছোটগল্প সংকলনের একটি গল্প মেঘমল্লার।

    এই গল্পটি যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে আমরা এর নাট্যরূপ দিয়েছি। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।