কথকতার ছলে জীবনের গল্প বলে মেয়েদের দল Mad Balikas
শ্রুতি নাটক - মেঘমল্লার
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে শ্রুতিনাটক
সিরিজ: গা ছমছম | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশিত: 18 জুন 2022 | সময়কাল: 36 মিনিট 46 সেকেন্ড
চরিত্রলিপি:
  • প্রদ্যুম্ন | সোমা দে
  • সরস্বতী | অমলিতা খাঁড়া
  • গুণাঢ্য | পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  • সুনন্দা | জয়িতা ভট্টাচার্য
  • সূত্রধর | প্রিয়াঙ্কা দাস কানুনগো
গান: জয়িতা ভট্টাচার্য, শ্রীপর্ণা চ্যাটার্জি

ভূমিকা

মেঘমল্লার বিভূতিভূষণের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত এই ছোটগল্প সংকলনের একটি গল্প মেঘমল্লার।

এই গল্পটি যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে আমরা এর নাট্যরূপ দিয়েছি। এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

নির্বাচিত চিত্রনাট্য

প্রদ্যুম্ন (ভয়েসওভার)

দূরে কোন মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। ঐ যে ঘন বেতবন আর বাঁশের জঙ্গল, তার ওপারে পাহাড়ের কোলে হয়ত আছে কোনো মন্দির, এখন ভালো মনে পড়ে না। শুধু মনে আছে ঐ পাহাড়ের নীচে মগধ থেকে বিদিশার রাজপথ। এমন আরোও অনেক পাহাড় পেরোলে কুমারশ্রেণীর বিহার। মনে পড়ে দশপারমিতার মন্দির। আরতির সময়ে সুনন্দা থাকত রোজ। সুনন্দা! কেমন আছ? প্রদ্যুম্নকে মনে পড়ে আর?

কেমন ভুলভাল বকছি। হয়ত এখন গ্রীষ্মকাল। অনেকদিন ভালো করে জল হয়নি। বৈশাখ? জৈষ্ঠ্য? কটা জৈষ্ঠ্য সংক্রান্তি হল? সেই যে সেবারে মেলা বসেছিল দশপারমিতার মন্দিরে, আর আমি, সুনন্দার সঙ্গে দেখা করার সব প্রতিজ্ঞা ভুলে খুঁজছিলাম সেই বীণ-বাজিয়েকে- সেদিন যদি ভদ্রাবতীর তীরে বসে বাঁশিই শোনাতাম সুনন্দাকে হয়ত সব কিছু অন্যরকম হত?

হয়ত হত না?

আমার এই কাহিনী বড় অদ্ভুত। কিন্তু কে শুনবে? কেই বা বলবে? প্রদ্যুম্নই আজ প্রদ্যুম্নকে বলুক, কেমন? প্রতিরাতের মত?

দশপারমিতার মন্দিরে আমি সেদিন গিয়েছিলাম সুরদাসের সন্ধানে। অবন্তীর বিখ্যাত গাইয়ে ও বীণ-বাজিয়ে - সুরদাস। লোকে বলত তিনি সরস্বতীর বরপুত্র। উৎসবের ভিড়ে তখনই তাঁকে দেখি। এক প্রৌঢ়। পরনে অতি মলিন ও জীর্ণ পরিচ্ছদ। তিনিই যেন আমাকে খুঁজে নিলেন। ভিড় ঠেলে কাছে এসে বললেন -

গুণাঢ্য

আমি অবন্তীর গাইয়ে সুরদাস। তুমি প্রদ্যুম্ন তো? আমাকেই খুঁজছিলে না?

প্রদ্যুম্ন

আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। ইনি কেমন করে আমার মনের কথা জানলেন? সুরদাস বললেন তিনি পিতার বন্ধু। বারাণসীতে আমাকে শিশুকালে দেখেছেন। আমি একবাক্যে বিশ্বাস করলাম। কি ছিল সেই জীর্ণবসন অদ্ভুত-দর্শন গায়কের মধ্যে জানি না। ভিক্ষু বসুব্রতের আঁকা জরার চিত্রের মত কুশ্রী, লোলচর্ম, শীর্ণদর্শন। পুরাতন পুঁথির ভুর্জপত্রের মত মেটে লাল রঙের তাঁর সেই পরিচ্ছদ, পড়ন্ত গোধূলিবেলায় তাঁর কি এক মায়াময় আহ্বান যেন আমাকে সম্মোহন করে নিল। স্থান কাল ভুলে তাঁর সঙ্গে আলাপে মজে গেলাম।

গুণাঢ্য:

তোমার পিতা তো প্রসিদ্ধ গায়ক ছিলেন। তুমি নিজে কিছু শিখেছ?

প্রদ্যুম্ন:

একটু-আধটু বাঁশি বাজাতে পারি

গুণাঢ্য:

পারা তো উচিত। তোমার পিতাকে চিনত না এমন লোক এদেশে খুব কম আছে। প্রতি উৎসবে কৌশাম্বী থেকে তাঁর নিমন্ত্রণ পত্র পেতাম। তা, তুমিও শুনেছি ভালোই বীণ বাজাও? তোমার বাঁশিতে মেঘমল্লার শুনব একদিন  শোনাবে?

প্রদ্যুম্ন:

বিশেষ কিছু যে জানি তা নয়, যা মনে আসে বাজাই। তবে মেঘমল্লার মাঝে মাঝে বাজিয়েছি।

গুণাঢ্য:

কৈ শোনাও দেখি, কেমন শিখেছ?

প্রদ্যুম্ন

বাঁশি সবসময় আমার কাছে থাকত। কখন কোন সময়ে সুনন্দার সঙ্গে দেখা হয়ে পড়ে বলা যায় না। বাজালাম অল্প। সুরদাস উচ্ছ্বাসে যেন দিশাহারা হয়ে গেলেন।

গুণাঢ্য:

চমৎকার, চমৎকার। এসো, বুকে এসো। ইন্দ্রদ্যুম্নের পুত্র যে এমন হবে সে বেশী কথা কী? বুঝতে পেরেছি তুমিই পারবে, এ আমি আগেও জানতাম। শোন প্রদ্যুম্ন, একটা গোপনীয় কথা আছে তোমার সঙ্গে। অনেকদিন ধরে খুঁজছি তোমাকে এই কারণেই। কথাটা তোমাকে বলা, কিন্তু তার আগে তোমাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, একথা তুমি কারুর কাছে প্রকাশ করবে না।

প্রদ্যুম্ন:

কি কথা না শুনে কি করে-

গুণাঢ্য:

তুমি ভেবো না, কোনো অনিষ্টজনক ব্যাপার হলে আমি তোমাকে বলতাম না। প্রতিজ্ঞা করলে তো? এই তো, লক্ষ্মী ছেলে। শোনো, নদীর ধারে একটা ভাঙা মন্দির আছে জানো তো? ওখানে একটা ঢিবি আছে দেখেছ? ওই ঢিবিটা বহু প্রাচীনকালে সরস্বতী দেবীর মন্দির ছিল। বহু বহু যুগ আগের কথা। শুনেছি এদেশের যত বড় বড় গায়ক ছিলেন তাঁরা সকলে শিক্ষা শেষ করে আগে ওই মন্দিরে এসে দেবীর পূজা দিয়ে তাঁকে তুষ্ট না করে ব্যবসা আরম্ভ করতেন না। বহুকাল আগের কথা, মন্দির ভেঙেচুরে এখন এই ঢিবি হয়েছে। লোকে এখন এর মাহাত্ম্য গেছে ভুলে। কিন্তু দেবী সরস্বতী? তিনি ভোলেননি।

কথিত আছে, আমার মত খুব হাতেগোনা কিছু লোক জানে, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র এই তিন পূর্ণিমায় আবাহন করলে তিনি এখনও দেখা দেন

প্রদ্যুম্ন:

দেখা দেন? দেবী সরস্বতী?

গুণাঢ্য:

শুধু তাই নয়। এই তিন পূর্ণিমায় তাঁকে ঠিকমত আবাহন করে তুষ্ট করলে তিনি বর দেন। গায়ক সিদ্ধি পায়। কোনো রাগ, কোনো ছন্দ, কোনো তাল তখন আর গায়কের অজানা থাকে না।

প্রদ্যুম্ন:

সত্যি?

গুণাঢ্য:

বিশ্বাস না হয় দেখ এই পূর্ণিমায় তাঁকে আবাহন করে? মেঘমল্লার তাঁর প্রিয় রাগ। কী বল? আমার সঙ্গে চেষ্টা করে দেখবে নাকি?

প্রদ্যুম্ন:

আমি - আমি-

গুণাঢ্য:

তোমার অমত আছে?

প্রদ্যুম্ন:

না না, তা নয়। কিন্তু সত্যিই তাঁকে দেখতে পাব? এও কি সম্ভব?

গুণাঢ্য:

বেশ তো। হাতে কলমে নিজেই পরীক্ষা করে দেখ? সামনের পূর্ণিমায় আমি সব ব্যবস্থা করে রাখি।

প্রদ্যুম্ন:

আচ্ছা রাখবেন, আমি আসব।

গুণাঢ্য:

বেশ বেশ। বড় আনন্দিত হলাম। তুমি এসো তাহলে। আর শোনো, কথাটা গোপন রেখ। পাঁচকান হলে মেলা বসে যাবে। জানই তো হট্টমেলায় অজ্ঞানতার বাস। দেবী ধারকাছ মাড়াবেন না।

প্রদ্যুম্ন

আমি কথা দিয়েছিলাম এই গুপ্তকথা কাউকে বলব না। আমার মনে তখন অধীর কৌতূহল। দেবী সরস্বতীকে চাক্ষুষ দেখতে পাব? সত্যিই শ্বেতপদ্মের মত গায়ের রং তাঁর? আচার্য বসুব্রত বলেন বটে এই মূর্তি হিন্দুদের কল্পনা। কিন্তু তাঁকে স্বচক্ষে দেখতে পেলে আর-

আমার একবারও মনে হয়নি এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র আছে। একবারও প্রশ্ন জাগেনি এই লোকটি কী চায়। আমি ভাবতেও পারিনি কি সর্বনাশ হতে চলেছে।

সেই সন্ধ্যায় তুমি বড় অভিমান করেছিলে সুনন্দা। আমার সামনে দিয়ে চলে গেলে একদল মেয়ের সঙ্গে। আমাকে দেখেও দেখলে না। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে লাফাতে লাফাতে নেমে এসেছিলাম আমি যেন ঝর্ণার সঙ্গে পাথর। তারপর তুমি দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলে। আমি রাগের চোটে ঠিক করলাম যেটুকু ত্রিপিটকের পাঠ আয়ত্ত করেছি সব ভুলে যাব। এমন সময় একটা গাছের আড়ালে মনে হল কেউ দাঁড়িয়ে। ঠাহর করে দেখি গাছের পাতার ফাঁকে চিকচিকে জ্যোৎস্নার আলো - সেই আলো আঁধারির জালের মাঝে দাঁড়িয়ে- তুমি

সুনন্দা:

ভূতে পাওয়ার মত মুখ করে দাঁড়িয়ে রইলে যে? ঐ সাপুড়েদের থেকে নেশা ভাং শিখছ নাকি আজকাল?

প্রদ্যুম্ন:

বা রে, আমি বুঝি নেশা ভাং করেছি কখনও? সাপুড়েরা তো খেলা দেখায়। ওতে নেশা হয় না।

সুনন্দা:

তবে অমন মুখে চোখে ধাঁধাঁ লেগে আছে যে? ঐ বাজিকরদেরই তো হাঁ করে দেখছিলে সারাদিন ধরে।

প্রদ্যুম্ন:

মোটেও আমি কেবল বাজিকরদের দেখিনি। তুমি তোমার সই সোমদত্তাকে খুঁজলে, তারপরে গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে কত কথা বললে, কনকচাঁপা ফুল না পেয়ে দুঃখ করলে। আমার দিকে ফিরেও তাকাওনি। এই এখন আসছিলাম যখন পাশ দিয়ে চলে গেলে, তখনও কথা বললে না। ভালো, আচার্য পূণ্যভদ্রকে বলে দেব আমার এ জীবনে ত্রিপিটক আর আয়ত্ত হবে না। তার পর চলে যাব এখান থেকে।

সুনন্দা:

ও মা, কথা শোনো একবার। কোথায় যাবে শুনি?

প্রদ্যুম্ন:

তোমার সুমুখ থেকে দূরে।

সুনন্দা:

সেই তো। নিজে দেরী করে আসবেন, বাঁশি শোনানোর কথা ভুলবেন। কিন্তু রাগ করার উপায় আমার নেই, উনিই গাল ফুলিয়ে দেশ ছেড়ে যাবার হুমকি দেবেন। হায় রে সুনন্দা, কেমন পাষাণকে মন দিয়েছিস তুই।

প্রদ্যুম্ন:

হুম, পাষাণে বাঁশি বাজাতে পারে?

সুনন্দা:

(হেসে) কী জানি, কানে কম শুনি আজকাল, চোখে কম দেখি- বুড়ি হচ্ছি কিনা

প্রদ্যুম্ন:

বটে? দেখি কটা চুল পেকেছে? কখানা দাঁত নড়েছে?

সুনন্দা:

বড় সাহস হয়েছে তোমার। ছাড়ো ছাড়ো।

প্রদ্যুম্ন:

ছেড়ে দিলে বাঁশি শোনাবো কাকে?

সুনন্দা:

আরে পাগল, এখানে নয়, নদীর ধারে বসব চল। আচার্য জানতে পারলে কিন্তু তোমার কপালে দুঃখ আছে বলে দিলাম প্রদ্যুম্ন

প্রদ্যুম্ন:

দুঃখ আমার চেয়ে ঢের বেশী আচার্যের, এই গাধাকে পিটিয়ে ঘোড়া বানানোর যে ব্রত নিয়েছেন তাতে মহাকোঠঠী বিহারের লোকসান বৈ লাভ দেখতে পাই না।

সুনন্দা:

সে ঠিক।

প্রদ্যুম্ন:

অর্থাৎ আমি গাধা, এই তো?

সুনন্দা:

অর্থাৎ লাভের ভাগ সব সুনন্দার, এই।

প্রদ্যুম্ন:

নেওয়াচ্ছি ভাগ, চল নদীর ধারে। আজ দুই প্রহরের আগে ছাড়ব না।

(গান)

প্রদ্যুম্ন

সেবার শাল পিয়াল তমালের বনে ঘনঘোর বর্ষা নামল। সুনন্দা বলেছিল আমি রোজ মেঘমল্লার বাজাতাম, তাই ঝেঁপে বর্ষা এসেছে। বড় ফাঁকি দিয়েছিলাম তাকে, সে বুঝতেও পারে নি তাকে শোনানোর চেয়েও বেশী এ ছিল আমার প্রস্তুতি।

দেখতে দেখতে এসে গেল আষাঢ় পূর্ণিমা। রাতের বেলায় সুরদাসের কথা মত চুপিচুপি গেলাম সেই ভাঙা মন্দিরে। চারিদিকে অঝোর বৃষ্টি, তরল অন্ধকার। এর মধ্যেই নদীতে স্নান করলাম, সুরদাসের নির্দেশমত। নতুন পট্টবস্ত্র পরে এসে দেখি সুরদাস তার এক সঙ্গীকে নিয়ে হোমে বসেছে। সবার গলায় কুমুদের মালা, ছোট ছোট খুলিতে সলতে দিয়ে প্রদীপ জ্বালা হল। শেষরাত্রে হোম সম্পন্ন হলে সুরদাস বললেন

গুণাঢ্য:

প্রদ্যুম্ন, তুমি এবার তোমার কাজ আরম্ভ কর। খুব সাবধান, তোমার কৃতিত্বের ওপর এর সাফল্য নির্ভর করছে।

প্রদ্যুম্ন

সুরদাসের চোখের ক্ষুধিত দৃষ্টি আমার ভালো লাগল না। তাও বাজাতে আরম্ভ করলাম। ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি, ভদ্রাবতীর কুলকুলে স্রোত, মাঠ পেরিয়ে অন্ধকার শালবনের বাতাসে মিশে গেল মেঘমল্লারের আলাপ। হঠাৎ সামনের মাঠটা থেকে সমস্ত অন্ধকার কেটে গিয়ে চারদিক তরল আলোকে প্লাবিত হয়ে গেল। সবিস্ময়ে দেখলাম মাঠের ঠিক মাঝখানে শত পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার আলোকমণ্ডলী, এক অনিন্দ্যসুন্দরী তরুণীকে ঘিরে। তাঁর নিবিড় কৃষ্ণ কেশরাজি অযত্নবিন্যস্তভাবে তাঁর অপূর্ব গ্রীবাদেশের পাশ দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁর আয়ত নয়নের দীর্ঘ কৃষ্ণপক্ষ্ণ কোন শিল্পীর তুলি দিয়ে আঁকা, তাঁর রক্তকমলের মত পা দুটিকে বুক পেতে নেবার জন্য মাটিতে বাসন্তী পুষ্পের দল ফুটে উঠেছে - এই তো দেবী বাণী। এঁর বীণার মঙ্গলঝংকারে দেশে দেশে শিল্পীদের সৌন্দর্যতৃষ্ণা সৃষ্টিমুখী হয়ে উঠেছে। এঁর আশির্বাদে দিকে দিকে সত্যের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হচ্ছে। শাশ্বত এঁর মহিমা, অক্ষয় এঁর দান, চিরনূতন এঁর বাণী।

আমার বিহ্বল চোখের সামনে দেবীর মূর্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। ঘোরের মধ্যে শুনলাম সুরদাসের গলা

গুণাঢ্য:

হয়েছে। হয়েছে। অবশেষে। ওহে প্রদ্যুম্ন, আমার কাজ এখনও আছে, তুমি ইচ্ছে করলে যেতে পার। রাত শেষ হয়ে এল। কেমন- দেখলে তো? মিথ্যে নয়, দেখলে?

প্রদ্যুম্ন

দেখলাম আধো অন্ধকারে সুরদাসের চোখ জ্বলজ্বল করছে। ঘোরের মধ্যেই তাঁর থেকে বিদায় নিয়ে বিহারের দিকে রওনা দিলাম। মাঠ পেরিয়ে ঘন শাল দেবদারু বনের ধারে পৌঁছেছি, দেখলাম বনের মধ্যে দিয়ে আলো ঠিকরে আসছে। আকাশে চাঁদের গায়ে গ্রহণ লেগেছে, এমন আলো কোথ্থেকে আসবে? পিপুল গাছের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম - সেই অনিন্দ্যময়ী নারী। দেবী! তাঁর সমস্ত অঙ্গ দিয়ে আলো বেরুচ্ছে, কিন্ত্তু তিনি এমন বিহ্বল হয়ে চারপাশ হাতড়াচ্ছেন কেন? তাঁর আয়ত চক্ষুদুটি অর্ধনিমীলিত। যেন নেশার ঘোরে তিনি পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন, পারছেন না।

হঠাৎ বুকের মধ্যে কেমন তোলপাড় করে উঠল। চারপাশের ঘটনা শুধু অলৌকিক নয়, মনে হল কি যেন অশুভ ইঙ্গিত, কোথাও এক মস্ত বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আমি বিহারের উদ্দেশ্যে দৌড় দিলাম।

পরবর্তী অংশ শুনুন ইউটিউবে

মতামত, মোট 1

  • অত্যন্ত সুন্দর ,সাবলীল এবং মনোগ্রাহী। উপস্থাপনার আবহে নির্মাণশৈলীর বিশেষত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনাদের নিরন্তর ভালোবাসা এবং সান্নিধ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রইল। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন।

আপনার মতামত

এর উত্তরে Some User

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্টসমূহ

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১ - বিনয় বাদল দীনেশ

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ১

    বিনয় বাদল দীনেশ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 23 জানুয়ারী 2022 | সময়কাল: 23 মিনিট 21 সেকেন্ড

    গল্পটা আমাদের মোটামুটি চেনা। ইতিহাস বইয়ে বিনয় বাদল দীনেশের অলিন্দ যুদ্ধের আখ্যান পড়েনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ ব্রিটিশ রাজ যে তাঁদের দেগে দিচ্ছে আর্বান ডাকাত বলে, তা খুব একটা জানা কথা নয়। বিনয় বোস যখন গুলি খেয়ে হাসপাতালে, কমিশনার টেগার্ট সশরীরে গিয়ে বিনয় বোসকে দর্শন দিয়ে এলেন। পরের দিন দেখা গেল বিনয়ের আঙুলের গাঁটগুলো সব ভাঙা।

    অগ্নিযুগে বিপ্লবের জানা-অজানা কাহিনী নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি শ্রুতিনাটক টেগার্টের ডায়েরি। চ্যাপ্টার ১ নির্মিত হয়েছে বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স অভিযানের ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • শুধু তোমার জন্য ব্যানার

    শুধু তোমার জন্য

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 26 সেপ্টেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 29 মিনিট 16 সেকেন্ড

    আসিফা ফেরারী জীবনের শেষ রাতে জ্বরের ঘোরে এক তেঁতুল গাছের সঙ্গে গল্প করছিল। সে গল্পে দেবদাস আছে, বিদ্যাপতি আছেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত আছে, আর আছে এক প্রেমের গল্প - তোমাকে চাই। সেসব নিয়েই শ্রুতিনাটক শুধু তোমার জন্য, আসিফা ট্রিলজির দ্বিতীয় অংশ।এর শুরুতে আছে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে শ্রুতিনাটক দেবদাস পাঠ অভিনয়। আর ক্লাইম্যাক্সে আছে ও’হেনরীর “A Service of Love” গল্পের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত শ্রুতিনাটক “তোমাকে চাই।”

  • দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    দ্রোহকাল - তিন পর্ব

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 19 ডিসেম্বর 2021 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 36 মিনিট 9 সেকেন্ড

    দ্রোহকাল একটি ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী। গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক এই কাহিনী অজাতশত্রুর রাজত্বের প্রথমদিকের ঘটনাবলীর ওপর আধারিত। চারশ নব্বই খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ অজাতশত্রুর বৈশালী আক্রমণের পর থেকে মগধের তৎকালীন রাজধানী রাজগৃহে এই কাহিনীর সূত্রপাত। রবীন্দ্রনাথের পূজারিণী কবিতায় যে ঘটনার উল্লেখ আছে, এমনকি বাণী বসুর মৈত্রেয় জাতকের দ্বিতীয় পর্বেও যার আভাস পাওয়া যায়, সেই শ্রীমতির অর্ঘ্যদানের দ্রোহ সম্বল করে শ্রুতিনাটক- দ্রোহকাল। তিন পর্বে প্রকাশিত।

    এই কাহিনী আমাদের আসিফা ট্রিলজির শেষ কিস্তিও বটে। তিহার থেকে বলছি এবং শুধু তোমার জন্যর পর আমরা শেষবার দেখা পাব আসিফার। 

    নাটকের প্রধান চরিত্রে আছেন অজাতশত্রু, দেবদত্ত, শ্রীমতি, আম্রপালী এবং এক বিদেশী।

    এখানে নাটকের অংশবিশেষ রইল সংলাপ আকারে।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ২ - ননীবালা দেবী

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ২

    ননীবালা দেবী

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 10 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 16 মিনিট 9 সেকেন্ড

    আমাদের এই চ্যাপ্টারে আছেন এক ব্ল্যাক উইডো। তিনি হলেন ননীবালা দেবী। ননীবালা দেবী। বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী। অফিসিয়ালি প্রথম থার্ড ডিগ্রী খাওয়া মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবী। শরীরে দুবাটি লঙ্কাবাটা ঢোকানোর পরেও মুখ না খোলা ননীবালা দেবী।

    টেগার্টের ডায়রীর দ্বিতীয় পর্ব, নির্মিত হয়েছে বাংলার প্রথম মহিলা রাজবন্দী ননীবালা দেবীর ওপরে। শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৪-৬

    নেতাজির উত্থান, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ, হিজলী জেল হত্যাকাণ্ড এবং প্যালেস্টাইনের আরব বিদ্রোহ

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 3 মিনিট 44 সেকেন্ড

    স্বাধীনতার ইতিহাসটা হয়ত কুখ্যাত টেগার্টের চোখ দিয়ে দেখলে, মাষ্টারদা সূর্য সেন, সুভাষ বোস, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা কি সংগ্রাম করেছেন তার আঁচ পাওয়া যায়। নেতাজির উত্থান এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ থেকে হিজলি জেল হত্যাকান্ড নিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের ঘূর্ণিপাকের কেন্দ্রে এই শ্রুতিনাটক।কলকাতার পুলিস কমিশনার টেগার্ট তাঁর সাফল্যমণ্ডিত ইনিংসের বর্ণনা শেষ করে ইন্ডিয়া থেকে রওনা দেবেন প্যালেস্টাইন। আরব বিদ্রোহীদের সায়েস্তা করার টার্গেট নিয়ে।

  • Ajeeb Dastaan - বাঈজীদের গল্প

    Ajeeb Dastaan - বাঈজীদের গল্প

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয় | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 06 মার্চ 2022 | সময়কাল: 26 মিনিট 41 সেকেন্ড
    প্রাপ্ত-বয়স্কদের জন্য

    বিস্মৃত যুগের নগরবধূ থেকে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ইন্ডিয়ান উপনিবেশের বাঈজীদের ব্যাপ্তিতে আমরা খুঁজতে চেয়েছি নটীদের সামাজিক অবস্থানের বিবর্তনের ইতিহাস। এই শ্রুতিনাটক কাল্পনিক হলেও যে ইতিহাসের গল্প আমরা বলেছি তা আমাদের উপনিবেশের অমোঘ সত্য।

  • টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩ - বাঘা যতীন

    টেগার্টের ডায়েরি চ্যাপ্টার ৩

    বাঘা যতীন

    সিরিজ: ইতিহাস কথা কয়
    প্রকাশিত: 12 আগস্ট 2022 | সময়কাল: 21 মিনিট 38 সেকেন্ড

    1915 সালে নয়ই সেপ্টেম্বর যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন পাঁচজন সহযোদ্ধা নিয়ে তিনশো ইংরেজ সৈন্যর সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বালাসোরে বুড়িবালাম নদীর তীরে এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। সেই সৈন্যবাহিনীতে টেগার্ট নিজেও ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের তরফে। টেগার্টের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্মিত শ্রুতিনাটকের কিছু সংলাপ এখানে রইল।

  • তিহার থেকে বলছি

    তিহার থেকে বলছি

    সিরিজ: গল্প-গাছা | নাট্যরূপ: পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশিত: 08 মে 2022 | সময়কাল: 1 ঘন্টা 27 মিনিট 25 সেকেন্ড

    শ্রুতিনাটক তিহার থেকে বলছি রবিপ্রেমের ফসল। রবীন্দ্রনাথের তিনটি উপন্যাস শেষের কবিতা, ঘরে বাইরে এবং চতুরঙ্গের কিছু অংশ এক কাল্পনিক চরিত্র আসিফার দৃষ্টিতে পাঠ করব আমরা। আসিফা এক রাজবন্দী। লাবণ্য, বিমলা, দামিনীর অন্বেষণে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত মিশে যায়।

    রাজবন্দী আসিফার মোট তিনটি উপাখ্যান আছে, তিহার থেকে বলছি তার প্রথম কিস্তি। নাটকের মৌলিক অংশটি রইল।